রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় রাঙ্গামাটি সড়কের মাটি ধস ও সড়কের ওপর পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি বিভাগের হিসাবে জেলার ছয়টি সড়কের ৪৪টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থানে সুরক্ষা বা সংস্কারকাজ করলে পুনরায় একই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না। সড়ক সংস্কারকাজে ব্যয় হতে পারে ৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে এলজিইডির দুটি সড়কেও ১০টি স্থান ধসে গেছে।
রাঙ্গামাটি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কসহ জেলার ছয়টি সড়কে সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টির কারণে ৪৪টি স্থানের মাটি ধসে গেছে। এসব স্থানে সংস্কার করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থানে রক্ষাকাজ হিসেবে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ও সড়ক সংস্কার করতে ৯ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। রাঙ্গামাটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ২৪৯টি কোটি টাকার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এবার ক্ষতি হয়নি। প্রকল্পটির কাজ চলমান না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ত। বর্তমানে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পটির ৭৫ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরপর চারটি প্যাকেজ রাঙ্গামাটির চারটি সড়কের ঝুঁকি এড়াতে ২০২০ সালে সড়কের পাশে ২৪৯ কোটি টাকার একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রকল্প নেয় সওজ। বর্তমানে প্রকল্পের অধীনে চারটি সড়কে ১৫১ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ শেষের দিকে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ৪৯টি, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কে ৪০ ও রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-নানিয়ারচর সড়কে ৬২টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। টেকসই এ প্রকল্প গ্রহণের কারণে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি ধস থেকে অনেকটা রক্ষা পাচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির অধীনে রাঙ্গামাটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে ১০ জায়গায় সড়কের মাটি ধসে গেছে। এর মধ্যে জেলা শহরের ভেদভদী থেকে তবলছড়ি বাজার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের পাঁচ জায়গায় সড়কের পাশের মাটি সরে গেছে। এছাড়া ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের পাঁচটি জায়গায় মাটি ধসে গেছে।
এলজিইডি রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এলজিইডির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ৯-১০টি জায়গায় সড়কের পাশে মাটি ধসে গেছে। এরপরও দুই সড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’